চুল নিয়ে যাদের হাজারও সমস্যা তাদের কষ্টের জায়গাটি এ রকমই। আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়টাতে ত্বক, চুলের দেখভাল বেশি প্রয়োজন। চুলের বিভিন্ন সমস্যা ও তার সমাধানের হদিস দিয়ে দিলেন রূপবিশেষজ্ঞরা...
সতেজ দীঘল চুলের জন্য নিয়মিত যত্নই যথেষ্ট: গ্রীষ্ম শুরু হতে এখনো বাকি। তবে তার আগমনবার্তা চলে এসেছে। এখন বলতে গেলে দুই ধরনের আবহাওয়া। দিনে গরম, রাতে হালকা ঠান্ডা। এর মধ্যে চুলের ভারসাম্য ঠিক রাখা প্রয়োজন। রূপবিশেষজ্ঞরা মনে করেন এ সময় সবচেয়ে বেশি যে ক্ষতিটা হয় সেটা হলো চুল রোদে পুড়ে যায়। এ কারণে অনেকের চুলে লালচে আভা চলে আসে। চুল পড়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। কারণটি হলো খুশকি। হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের চর্ম বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আফজালুল করিম বলেন, এ সময়ে মাথার চামড়ায় শুষ্কতার পরিমাণ বেড়ে যায়। এ কারণে খুশকি দেখা দেয়। যারা বাইরে বেশির ভাগ সময় আর্দ্রতার ভেতর কাজ করে থাকেন তাঁদের এই সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। সঙ্গে চুলকানির প্রবণতাও বেড়ে যায়। এ কারণে চুলের গোড়া পরিষ্কার রাখাটা খুবই দরকারি। ত্বককে নরম রাখতে হবে। প্রতিদিন ভালোভাবে শ্যাম্পু করলে এই সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে।’আয়ুবের্দভিত্তিক রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা চুলের ক্ষতির দিকগুলো তুলে ধরে বলেন, ‘বেশি শুষ্কতা থেকে চুলের আগা ফাটতে থাকে, চুল ভেঙে যায়। অনেকের মাথায় ছোট ছোট ফুসকুড়ি হয়। মাথা ঘেমে যায়। অনেকের
মাথায় ব্রণের মতো হয়।’ এসব সমস্যা থেকে সমাধানের জন্য বাড়িতে চটজলদি প্যাক তৈরি করে লাগাতে পারেন। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক: রুক্ষতা থেকে বাঁচার উপায় আমলকী, ভৃঙ্গরাজ, মেথি, এক চা-চামচ নিম পাতা পেস্ট, নিম তেল সমপরিমাণে নিয়ে একসঙ্গে পেস্ট করে পুরো মাথায় লাগাবেন। এই প্যাকটি চুল কোমল করার পাশাপাশি সব ধরনের
চুল পড়া কমাতে টকদই, আদার রস, মেথি, মেহেদি সমপরিমাণে নিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে। এরপর মাথায় মেখে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
চুল গজানোর প্যাক জবা ফুল, মেথি, নিম পাতা, জলপাই তেল একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্টকরে লাগালে ভালো ফল পাবেন। এটি চুলকে কালো করবে ও খুশকি থেকেও রেহাই পাবেন। এ ছাড়া নারকেল বাটা, আমলকীর রস, লেবুর রস, ঘৃতকুমারী, মেথি একসঙ্গে পেস্ট করে লাগালে চুল ঘন ও মসৃণ হবে। ডিমের সাদা অংশ, টকদই, মেহেদি ও লেবুর রস চুলকে মজবুত করবে, চুলপড়া বন্ধ করবে, রেশমি করে তুলবে। পেঁয়াজের রস, জবা, ত্রিফলা, নারকেল বাটা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। তেল লাগানোর পর মাথার রোমকূপগুলো বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এরপর আপনি যা-ই লাগান
না কেন খুব একটা কাজ হয় না। এ কারণে তেল লাগানার পর অবশ্যই গরম পানিতে ভেজানো তোয়ালে মাথায় পেঁচিয়ে ভাপ নিতে হবে। এরপর আপনি প্যাক লাগালে উপকার পাবেন। রোদের তাপ থেকে রক্ষার জন্য যতটা সম্ভব চুল ঢেকে রাখা উচিত। ঠান্ডা পরিবেশে গিয়ে চুলটা খুলে দেওয়ার পরামর্শ দিলেন আফরোজা পারভীন।
চুলের সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে চিন্তা করে নানারকম হেয়ার ট্রিটমেন্ট করেন অনেকে। ফলাফল হিতে বিপরীত। দরকার হলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন। চুলের জন্য প্রোটিন খুবই দরকার। শুষ্ক চুলের অধিকারীরা মাসে দুই দিন প্রোটিন ট্রিটমেন্ট করুন। এরপর ভালোভাবে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার লাগাতে হবে। সপ্তাহে দুই দিন তেল গরম করে ম্যাসেজ করুন। টকদই, মধু, কলা, পেঁপে খুব ভালো কাজ করে। তিনি বলেন, ‘এ সময়ে তৈলাক্ত চুলে তেলতেলে ভাব বেড়ে যায়। শুষ্ক চুল আরও বেশি শুষ্ক হয়ে যায়। দুটো জায়গা থেকেই ঝামেলা হয়। শুষ্ক চুলে বেশি শুষ্কতা চলে আসে। একই সঙ্গে চুলের স্বাস্থ্য কমে যায়।’ চুল যে খারাপের দিকে যাচ্ছে, এটা প্রথম দিকে বোঝা যায় না। এক-দুই মাস পর ক্ষতিটা ধরা পড়ে বেশ ভালোভাবেই। সমস্যা হলো তত দিনে যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে যায়। এ কারণে আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সময়টা থেকেই চুলের যত্ন নিন। চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। বেশি ক্ষারযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
Always stay happy... Love yourself and your parents... SAIKOT






0 comments:
Post a Comment